বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১০ ফাল্গুন ১৪৩০
 
স্বাস্থ্য
হাঁপানি থেকে রেহাই পেতে নতুন চিকিৎসা





ডিডাব্লিউ
Friday, 2 February, 2024
11:49 PM
 @palabadalnet

হাঁপানি রোগী (প্রতীকী ছবি)

হাঁপানি রোগী (প্রতীকী ছবি)

অ্যাস্থমা বা হাঁপানির কারণে শ্বাসকষ্ট অনেকের সারা জীবনের সমস্যা৷ ওষুধ হিসেবে নিয়মিত কর্টিসন নিলেও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ধাক্কা সামলাতে হয়৷ একেবারে নতুন ধরনের চিকিৎসা শ্বাসকষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করছে৷

সন্তানদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে হাঁপিয়ে না উঠে বলের পেছনে ছোটা ডিয়র্ক ব্যোমের জন্য বেশ কঠিন ছিল৷ তাঁর বড়ই শ্বাসকষ্ট হতো৷ নিজের সেই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমার কখনো অ্যাস্থমা অ্যাটাক হয় নি, যার ফলে মুখ নীল হয়ে যায়৷ কিন্তু সারাক্ষণ নিঃশ্বাস নেবার সময় চাপ বোধ করতাম৷ মনে হতো, যেন ফুসফুসের উপর কিছু একটা চেপে রয়েছে৷ ফলে অনেক শক্তি দিয়ে বাতাস নিতে হতো৷”

ভাগ্য ভালো, যে ৪২ বছর বয়সি মানুষটি আবার খেলাধুলা করতে পারছেন৷ তার কঠিন অ্যালার্জিক অ্যাস্থমা রয়েছে, যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও প্রকট হয়ে উঠেছে৷ কর্টিসন ওষুধের ডোজ বাড়িয়েও লাভ হয়নি৷

বহুকাল ধরে ডাক্তাররা কাশি ও শ্বাসকষ্টের মতো অ্যাস্থমার উপসর্গের চিকিৎসা করে প্রাণঘাতী শ্বাসকষ্টের আশঙ্কা দূর করার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন৷ কিন্তু এক বিশেষজ্ঞ চিকৎসকের মতে, বর্তমানে এমন মনোভাব পুরোপুরি সেকেলে হয়ে গেছে৷ অ্যাস্থমা বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রো. মারেক লমাচ বলেন, ‘‘আধুনিক থেরাপির আওতায় আমরা রোগীদের এমন ওষুধ দেই, যা সমস্যা সৃষ্টি হতেই দেয় না৷ অর্থাৎ রোগীকে নিয়মিত যত কম ডোজ সম্ভব ওষুধ খেতে হলেও তার আর শ্বাসকষ্ট হয় না৷ তাকে হাসপাতালে যেতে হয় না, একেবারে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারে৷”

ডিয়র্ক ব্যোমে-কে তথাকথিত ‘বায়োলজিক্স' ওষুধ খেতে হচ্ছে, যা আসলে জৈব উপায়ে সৃষ্টি করা অ্যান্টিবডি৷ সেই চিকিৎসায় সুফল পাওয়া যাচ্ছে৷ শুধু বছরে দুই বার তাঁকে চেকআপ করাতে হয়৷ ডাক্তারি পরিভাষায় ডিয়র্কের শ্বাসকষ্ট ‘আপার নর্মাল রেঞ্জ’-এ রয়েছে৷ 

পালমোনোলজিস্ট হিসেবে ড. সসেমিরা হাইন বলেন, ‘‘সব মিলিয়ে খুবই ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে৷ ‘ক্লিনিকাল পিকচার' অর্থাৎ তাঁর সার্বিক অবস্থা খুবই ভালো৷ ফলে নানা সম্ভাব্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াসর্বস্ব কর্টিসন ওষুধ দিতে হয় নি৷''

ক্রনিক অ্যাস্খমার কারণে ডিয়র্ক ব্যোমের ফুসফুসের ক্রিয়া কিছুটা সীমিত হলেও বর্তমানে তিনি সুস্থ বোধ করছেন৷ তাঁর শারীরিক অবস্থাও স্থিতিশীল রয়েছে৷ অথচ নতুন থেরাপি শুরু হবার আগে জীবন অনেক কঠিন ছিল৷ স্প্রে অথবা ট্যাবলেটের আকারে সব সময়ে কর্টিসন নিতে হতো৷ তা সত্ত্বেও তিনি প্রায় প্রতিদিন অসুস্থ বোধ করতেন৷ ডিয়র্ক বলেন, “নানা রকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কারণে ভালো বোধ করতাম না৷ হাত কাঁপতো, হাই ডোজের কর্টিসনের কারণে চঞ্চল থাকতাম৷ তা সত্ত্বেও উন্নতি হয় নি৷”

কর্টিসন প্রয়োগ করে দীর্ঘমেয়াদী থেরাপি যে উপকারের বদলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপকার করে, তা ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়ে গেছে৷ তা সত্ত্বেও ডিয়র্ক ব্যোমের ডাক্তার শ্বাসনালীর ক্রনিক ইনফ্লামেশন নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্টিসনকে অপরিহার্য মনে করছেন৷ অবশ্যই বায়োলজিক্স ওষুধের পাশাপাশি সেটি নিতে হচ্ছে৷ এভাবে প্রত্যেক রোগীর জন্য সুনির্দিষ্ট থেরাপির ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷ প্রো. মারেক লমাচ বলেন, “আজকাল স্পষ্ট বলতে হয় কার কী ধরনের অ্যাস্থমা রয়েছে৷ অ্যালার্জি আছে কি নেই৷ অথবা কারো নির্দিষ্ট বায়োমার্কার রয়েছে, অতীতেও রোগের ইতিহাস রয়েছে৷ বার বার হাসপাতালে যেতে হয়েছে৷ মা বা সন্তানদের কোন রোগ ছিল বা আছে৷ বর্তমানে সেই সব তথ্য একত্র করে রোগীর জন্য সুনির্দিষ্ট থেরাপি স্থির করতে হয়৷ সেই থেরাপি অত্যন্ত কার্যকর৷”

ডির্ক ব্যোমে নতুন থেরাপিতে ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছেন৷ মাসে নিজেই তিনি দুটি করে ইঞ্জেকশন নেন৷ তখন থেকে শরীর-স্বাস্থ্যের ক্রমাগত উন্নতি হয়ে চলেছে৷

পালাবদল/এসএ


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2024
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকা-১২১৭
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]